আমি আবার R একটিবার তোমার প্রেমে পরতে চাই

2
53

 

আদিব ঢাকার একটিপ্রাইভেট ভার্সিটিতেপরে। ভার্সিটিতে দুইএক জন ছাড়া তার  তেমনকনো friend নেই। সবাই আবিদকে ভদ্র ছেলে বলেই জানে। কিন্তু ওর যে দুই এক জন friend আছে তারা জানে আদিব কতো দুষ্ট ছেলে কিন্তু ওর মনটা অনেক ভালো। ও সব সময় ওর friend এর মাতাইয়ে রাখে। নতুন semester এর প্রথম class আজ। ওর friend এর সাথে class এ গেলো। আদিবের জীবন যেমন ভাবে কাটছিলো তেমন ভাবেই কাটতে পারতো, যদি ওর রিধির সাথে না দেখা হতো। রিধিকে ও class  এই প্রথম দেখেছিলো। এই ভারসিটিতে আদিবের প্রায় ২ বছর হলো, রিধিকে এর আগে দেখাছে বলে ওর কাছে মনে হলোনা। মেয়েটা কে প্রথম বার দেখে কেমন যেনো ভালোলেগে গেলো আদিবের কাছে, ওর কাছে মনে হলো মেয়েটার কনো আধ্যাতিক ক্ষমতা আছে, ওর আসে পাসে যারা থাকবে তাদের মন এমনিই ভালো হয়ে যাবে। সেদিন সারাদিন শুধু রিধির কথা ভাবলো আদিব। ও মনে মনে বুঝার চেষ্টা করলো এটা আসলে ওর ভালোলাগা নাকি ভালোবাসা? সারাদিন ভাবার পর ও বুঝতে পারলো আসলে এটা ভালোবাসা না ভালোলাগা। এমনতো এর আগে কতই হয়েছে। ওরা একসাথে class করতে লাগলো। class  এ রিধির সাথে মাঝে মাঝে ওর কথা হয়। অবশ্য বেশি ভাগ সময় রিধিই আদিবের সাথে কথা বলে। আদিব কখনো মেয়েদের সাথে নিজে থেকে কথা বলেনা। মজার বিষয় হলো এত কিছু হলো আদিব এখনো রিধির নাম জানেনা। একদিন class এ গিয়ে ও যা করেনা, তাই করলো। ও রিধিকে জিজ্ঞাসা করলো আচ্ছা তোমার নাম কি ?রিধি অবাক হয়ে বললো তুমি আমার নাম জানো না? অবশ্য আমিও তোমার নাম জানিনা, আমার নাম রিধি তুমার নাম কী? আমার নাম আদিব। তারপর আরো কিছু দিন কেটে গেলো। তারপর semester শেষ হয়ে গেলো। আবার নতুন semester শুরু হলো। আদিবের সাথে রিধির দেখা হলো। রিধি আদিবকে জিজ্ঞাসা করলো কি অবস্থা কেমন আছো? ভালো তুমি কেমন আছো? আমিও ভালো আছি, আচ্ছা তুমি কি math2 নিছো? হ্যা। কোন sir। ফরাদ রেজা sir। আমিও তো ফরাদ রেজা sir নিছি। কোন section? আমার তো section C। আমার তো section E, আচ্ছা ভালোথেকো bey, বলেই রিধি চলেগেলো। কিছুদিন পর আদিব class এ ওর friend এর সাথে বসে আছে, এমন সময় রিধি class এ ঢুকলো, ঢুকে আদিব কে জীজ্ঞাসা করলো, আচ্ছা শুনো আমিতো E section এর, তোমাদের section এ class করলে কি sir কিছু বলবে? আদিব উত্তর দিলো, sir কালকে বলছিলো sir আজ কে ব্যাত নিয়ে আসবে, আর E section এর কেও যদি এই section এ class করে তাহলে sir মার দিবে। রিধি অনেক ভয় এবং কিছুটা অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করলো সত্যি! আদিবের friend তিসা রিধিকে বললো তুমি ঐ চিটারের কথা বিশ্যাস করছো? তুমি বোস sir কিছু বলবেনা। কথা গুলো শুনে রিধি ঠোট বেকা করে আদিবের দিকে মেকি একটা রাগ  নিয়ে তাকালো, তারপর একটা চেয়ারে ব্যাগ রেখে চলে গেলো। কিন্তু আদিবের চোখে দৃশ্যটা লেগে থাকলো। পরের দিন আবার রিধি আদিবেরsection এ class করতে এলো। রিধি কে দেখে আদিব বললো নোটিশ বোর্ড দেখ নাই? রিধি কিছুটা অবাক হয়ে বললো না দেখে নাই, কেন কি হয়েছে? E section এর কেও যদি এই section এ class করে, তাহলে তার 5 marks কেটে নেবে। এই কথা শুনে রিধি কিছু বললো না, শুধু চোখ গরম করে আদিবের দিকে কিছুক্ষন তাকাই থাকলো, তারপর পাশের চেয়ারে গিয়ে বসলো। পরের দিন আদিবের class হলো না। রিধি এর সাথে দেখা হলো, রিধি শুনো তোমাদের কি class হয়েছে? হ্যাঁ হয়ছে। তোমার lecture খাতা টা একটু দেবা? Lecture টা তুলে নিবো। ও তোমাদের তো class হয় নাই, তুমি আমাদের section এ class করলেই পারতা, বলেই রিধি খাতা বের করে দিলো। আদিব lecture তুলে খাতাটা ফেরত দিলো আর বললো, thanx। well come, শোন আমি তোমাকে খাতা দিছিনা, তুমি কিন্তু আর আমাকে ভয় দেখাবা না, কথা গুলা বলার সময় রিধির মুখটা সাবাভিক ছিলো কিন্তু কেমন যেন একটা মায়া ছরাচ্ছিলো। আদিবচোখ সরাতে পারছিলোনা, আদিব কিছুটা সময় নেয়ার পর উত্তর দিলো, আমি আবার তোমাকে কি ভয় দেখালাম? আমি তোমাদের section  এ class করতে গেলে তুমি শুধু বলো sir মারবে, marks কাটবে এগুলো বলে ভয় দেখাও, আর দেখাবা না ঠিক আছে, এই কথা গুলো বলার সময় রিধির মুখে কিছুটা আল্লাদে ভাব ছিলো যা আদিবেরকাছে আরো ভালো লাগলো। আদিব উত্তর দিলো আচ্ছা ঠিক আছে। রিধি মুখে একটা মিষ্টি হাসি দিয়ে বললো, মনে থাকে যেনো, বলেই রিধি চলে গেলো। সেদিন আদিব আবার চিন্তা করতে লাগলো আসলেই কি রিধি ওর শুধু ভালোলাগা, নাকি ভালোবাস? সারারাত একটা ঘোরের মধ্যে কাটলো আদিবের। পরের দিন আদিব রিধির section এ class করেতে গেলো। আদিবকে দেখে রিধি জিজ্ঞাসা করলো, আজ নোটিশ বোর্ডে কিছু লেখে নাই? আদিব একটু মুচকি হেসে উত্তর দিলো, হ্যাঁ লেখছে তো,কেও যদি অন্য section এ class করে তাহলে তাঁর 5 marks add করবে। রিধি কিছুটা অবাক হোয়ার ভাব করে বললো, কি বলো মাত্র 5 marks? আমি তো ভাবছি আরও বেসি marks add  করবে, আজ তুমি আসছোনা, বলতে বলেতেই sir ঢুকলো class এ। ওরা যার যার জাগাই বসে পরলো।

 

 

 

আজ আদিবের মনটা ভিসন খারাপ। বেস কয়দিন হয়ে গেলো রিধির সাথে ওর দেখা হচ্ছেনা। আদিব ভার্সিটিতে গেলো। রিধির সাথে দেখা হলো কিন্তু কিছু বললোনা। class শেষ করলো আদিব, দেখলো রিধি একা stairs কাছে দারায়ে আছে। আদিব রিধির কাছে গেলো। রিধি শুনো। রিধি মিষ্টি একটা হাসি দিয়ে আদিবের দিকে তাকালো, কি বলো। তুমি কি আমার একটা কাজ করতে পার? কি কাজ? আমি যদি কাও কে মারতে বলি তুমি পারবা? কথা শুনে রিধি পুরো পুরি অবাক হয়ে গেলো, রিধি আদিবের দিকে তাকালো, আদিবকে রিধি রখুবি সাভাবিক দেখালো। রিধি উত্তর দিলো, আমি কাও কে মারতে পারবো না, আমি মারামারি পছন্দ করিনা। আদিব একটু মুচকি হেসে বললো, যাক নিশ্চিত হলাম তুমি আমাকে মারবানা। রিধি এবার পুরোপুরি confuse হয়ে জিজ্ঞাসা করলো, আমি তোমাকে মারতে যাব কেন? না আসলে আমি তোমাকে কিছু কথা বললোবো, যে কথা শুনে তুমি আমাকে মারতে পার, আগে থেকে confirm হয়ে নিলাম। রিধির মুখ থেকে confuse ভাবটা কাটলোনা, রিধি বললো, কি বলবা সরাসরি বলোতো, তুমি না আমাকে কথা দিছিলা আমাকে আর ভয় দেখাবানা। আদিব রিধির চোখে চোখ রাখলো, আর বললো রিধি আমি তোমাকে ভালোবাসি, আমি জানি না তুমি অন্য কাওকে? ভালোবাস কিনা? বা তুমি আমাকে পছন্দ করো কিনা? আমি জান্তেও চাইনা, আমি শুধু আমার মনের কথাটা তোমাকে বলতে চাইছিলাম, তুমি যদি কখোনো মনে করো তুমি আমাকে ভালোবাসতে পারবা, তাহলে আমাকে জানাইও, আমি তোমার জন্য আপেক্ষা করবো। বলেই আদিব চলে গেলো। রিধি বিস্মিত ভাব নিয়ে কিছুক্ষন ওখানে দারাই থাকলো।

 

ঐ দিনের পর থেকে রিধির সাথে যখনি আদিবের দেখা হতো আদিব রিধির দিকে তাকাতো না, আর যে কনো অজুহাত দেখায়ে ওখান থেকে চলে আসতো। রিধি বিষয় টা নোটিশ করলো। এর কয়দিন পর রিধি আদিব কে পেছোন থেকে ডাকলো, আদিব শুনো। রিধির কন্ঠ শুনে আদিব কিছুটা বিস্মিত হয়ে পেছোন ফিরলো,

দেখলো অন্য দিনের রিধির থেকে আজকের রিধি একটু আলাদা, আজ রিধি একটু সাজগুজ করেছে, আজ রিধিকে পুরোপুরি অন্যরকম লাগছে। আদিব রিধির কাছে গেলো নিজের অজান্তে ও রিধি কে বলে ফেললো আজ তোমাকে অনেক সুন্দর লাগছে। রিধি মুচকি একটা হাসি দিল আর এমন একটা ভাব দেখালো, দেখে মনে হল ও এই কথার জন্য অপেক্ষা করছিলো। রিধি আদিবের চোখের দিকে তাকিয়ে বলতে লাগলো, আদিব তুমি আমাকে propose করছো আমি কনো ans দেই নাই, এইজন্য কি তুমি আমার উপর রাগ করে আছো? আমি বুঝতে পারছি তোমার বিষয়টা, আমি তোমাকে হ্যাঁ বলি আর না বলি এটাই কি সব কিছু? আমরা তো ভালো fiend হতে পারি? দেখ আমি খুব হাসি খুসি একটা মেয়ে, কেও আমকে এরিয়ে চলছে এই বিষয় টা আমি মেনে নিতে পারছিনা। রিধি তুমি যা ভাবছো ব্যাপারটা আসলে তা না, আমি তোমার উপর কোন রাগ করি নাই, আসলে তোমাকে ঐ কথা গুলো বলার পর থেকে আমি তোমার সামনে যেতে লজ্জা পাচ্ছি, আমি তো অনেক লাজুক ছেলে তাই। এই কথার শুনার পর রিধি আর হাসি আটকাতে পারলোনা, রিধি হাসতে হাসতে উত্তর দিলো, তুমি…… লাজুক! তোমার friend রা বলে তোমার মতো দুষ্টু আরকেও হতে পারেনা। এবার আদিবও একটু একটু হাসতে লাগলো, সাবার জন্য তো আর এক না। ও…….. তুমি দুষ্টু শুধু তোমার friend এরজন্য? আদিব উত্তর দিলো হ্যাঁ। থাহলে তুমি যে আমাকে ভয় দেখাতে ও গুলো কি ছিলো? এবার আদিব কোন উত্তর না দিয়ে মিটিমিটি হাসলো।  রিধি হাসি থামিয়ে আংগুল তুলে আদিব কে বললো, শুনো আমাকে দেখে আর এরিয়ে যাবানা, ঠিক আছে? আদিব উত্তর দিলো আচ্ছা ঠিক আছে। রিধি হাত না  নামিয়ে আবার বললো যদি যাও তাহলে তোমার খবর আছে। আদিব হাসতে হাসতে উত্তর দিলো বললাম তো যাবনা, রিধি আমার class আছে আমার যেতে হবে। আচ্ছা যাও। আদিব  কিছু দূর আসতে রিধি পেছন থেকে ডাক দিলো আদিব শুনো। আদিব ঘুরে আবার রিধির কাছে গিয়ে বললো কি হলো? রিধি মিটিমিটি হেসে উত্তর দিলো না কিছু না যাও। আদিব আবার ঘুরে চলে যাচ্ছিল্ল, রিধি আবার পিছন থেকে ডাকদিলো, আদিব দারাও আমিও তোমার সাথে class করব, বলে রিধি আদিবের কাছে এসে দারালো। তারপর বললো না যাবনা তুমি যাও। আদিব কিছুটা অবাক হয়ে বললো কি শুরু করলা বলতো, আমার দেরি হয়ে যাচ্ছে আমি গেলাম, বলে আদিব ঘুরে দারালো। পেছন থেকে রিধি ওর হাত চেপে ধরলো, আর বললো, আদিব আমিও তোমাকে ভালবাসি, কথা গুলা বলার সময় রিধি খুব সাভাবিক ছিলো, কিন্তু ওর মধ্যে কেমন যেন উচ্ছাস ছিলো, কথা গুলা বলেই আদিবের হাত ধরে টানতে টানতে বললো চলো class করে আসি, আজ আমি আর তুমি পাসাপাসি বসে class করব। আদিব কনো কথা বলতে পারলোনা, শুধু রিধির মুখের দিকে তাকিয়ে থাকলো আর ওর সাথে হাটতে হাটতে class এ গেলো।

 

কিছুদিন পর আদিব রিধি আর ওদের friend রা একসাথে canteen এ বসলো, আদিব আর রিধির প্রেম এর কারনে সবাইকে trick দিতে হবে। আদিবওর friend এর বললো তোরা কি খাবি বল। সবাই মিলে ঠিক করলো ওরা তেহারি আর mareenda খাবে। সবাই এক সাথে খেথে বসলো। আদিব হঠাৎ রিধি কে বললো রিধি আমি তোমাকে খাওয়াই দেয়ই? রিধি কিছুটা অবাক হলো কিন্তু তারপর খুব সাভাবিক ভাবে বললো আচ্ছা দাও। আদিব চামচ পাশে রেখে প্লেটটা নিয়ে রিধির দিকে এগিয়ে গেলো। এবার রিধি পুরাপুরি অবাক হয়ে আদিবকে বললো, তুমি কি আমাকে হাত দিয়ে খাওয়াই দিবে? আদিব খুবিই সাভাবিক ভাবে উত্তর দিলো, হ্যাঁ। রিধি এবার পুরাপুরি অবাক হয়ে বললো, কি বলো সবাই কি বলবে canteen ভর্তি student সবাই আমাদের দিকে তাকাই থাকবে এবং হাসাহাসি করবে। I don’t care, আদিবের চোখে একাটা দৃঢ় ভাব। রিধি বিষয়টা খেয়াল করলো আর এবার রিধি কেও খুব সাভাবিক দেখালো রিধি উত্তর দিলো আচ্ছা দাও, কথাগুলো রিধি এমনভাবে বললো দেখে মনে হলো canteen এ একটা ছেলে একটা মেয়ে কে নিজ হাতে খাওয়ায়ে দেবে এটাই সাভাবিক। তারপর আদিব রিধিকে খাওয়ায়ে দিলো। ওদের friend এবং canteen এ থাকা সবাই বিষয়টা খেয়াল করলো। কিন্তু ওরা ওদের মতো খাওয়া চালাই গেলো।

 

 

আজ রিধির exam কিন্তু আদিবের কনো exam নেই। রিধি study তে পড়তেছে exam এর আর বেসি সময় বাকি নেই। আদিব study তে ঢুকলো, ওর হাতে এক কাপ কফি। রিধি কফিটা খাও বললো আদিব। রিধি উত্তর দিলো সময় নেই, একটু পরে exam শুরু হয়ে যাবে। আদিব রিধির বই বন্ধ করে দিয়ে বললো অনেক পড়ছো এবার এই কফিটা খাও, দেখবা exam এর সময় মাথাটা ঠান্ডা থাকবে। এবার রিধির মুখে কিছুটা আল্লাদে ভাব, রিধি উত্তর দিলো না খাব না, ইচ্ছা করছে না। আদিব কিছুটা চোখ গরম করে বললো খেতে বলছিনা আমি? রিধি আর কনো কথা না বলে মিষ্টি একটা হাসি দিয়ে আদিবের হাত থেকে কফির কাপটা নিয়ে খেতে শুরু করলো। খাওয়া শেষ করে রিধি বললো আদিব আমার exam এর আর ১০ মিনিট বাকি আছে আমি গেলাম। বলেই রিধি উঠে দারালো। আদিব রিধি কে ডাক দিলো, রিধি একটু দারাও। রিধি দারালো তারপর আদিবের দিকে তাকিয়ে বললো কি হলো। আদিব রিধির দিকে তাকিয়ে বললো মাথায় কাপুর দাও। রিধি কিছুটা রেগে জীজ্ঞাসা করলো কেনো? আদিব বললো, দিতে বলছি দাও। রিধি কনো কথা না বারিয়ে মাথায় উরনা দিয়ে বললো, এবার? আদিব ঠোট বিরবির করে কিছু দোয়া পড়ে রিধি কে ফুঁ দিয়ে বললো, এবার যাও। রিধি কিছুটা বিরক্তি ভাব দেখিয়ে বললো, এবার তোমার পা ধরে সালাম করতে হবে না? আদিবের মুখটা হালকা হাসিহাসি, ও মুখে কনো উত্তর না দিয়ে শুধু মাথা নারিয়ে উত্তর দিলো, না। রিধি বিরক্তি কর ভাবটা নিয়ে ঘুরে দারালো, ঘুরার সাথে সাথে রিধির মুখে একটা হাসি দেখা গেলো, সাথে সাথে ওর ঠোট দুইটা নরতে দেখা গেলো, রিধি বললো পাগল একটা, কিন্তু কনো শব্দ হলোনা। রিধির হাসি আর কথা কনোটাই আদিবপিছন থেকে বুঝতে পারলোনা। exam শেষ করে রিধি বের হয়ে দেখলো আদিবexam হলের সামনে দাঁড়ায়ে আছে, রিধি আদিবের কাছে গেলো। রিধি কিছু একটা বলতে যাবে তার আগেই আদিব একটা পানির বোতল রিধির দিকে দিয়ে বললো, ধরো আগে পানি খেয়ে মাথা ঠান্ডা করো, তারপর বলো। রিধি কনো কথা না বলে পানির বোতলটা নিলো আদিবের কাছ থেকে নিয়ে পানি খেলো, তারপর রিধি আদিবের দিকে তাকাতেই আদিব জিজ্ঞাসা করলো exam কেমন হয়েছে। এই প্রশ্ন শুনে রিধির চেহারাই একটা পরিবর্তন দেখা গেলো, ওর চেহারা দেখেই বুঝা গেলো ওর exam ভালহয়েছে, তারপর রিধি উত্তর দিলো, অনেক ভালো হয়েছে। ওরা কথা বলতে বলতে চলে গেলো।

 

 

কয়েক দিন পর আদিব ভার্সিটির গেটের সামনে ওর friend এর সাথে দাড়াই আছে। আদিবেরএক friend আদিবকে বললো দোস তোর নায়িকা আসছে। আদিবঘুরে রিধি কে দেখতে পেলো, রিধি কে দেখে ওর বুকের ভিতর কেমন যেনো ফাঁকা হয়ে গেলো। আদিব দৈার দিয়ে রিধির কাছে গিয়ে জিজ্ঞাসা করলো তোমার কি হয়েছে? তোমাকে এমন দেখাচ্ছে ক্যান? তোমার চুলের এ অবস্থা কেনো?  রিধি কনো কথা না বলে একটু আল্লাদে ভাব দেখিয়ে ওর হাতটা দেখালো। আদিব দেখতে পেলো ওর হাত ব্যান্ডেজ করা। আদিব কে আরো চিন্তিত দেখালো। কিছুটা উত্তেজিত হয়ে আদিব রিধিকে জিজ্ঞাসা করলো কি হয়েছে তোমার? এবার রিধি কিছুটা রাগ দেখিয়ে বললো রাস্তার মধ্যে চিল্লাচিল্লি করবানা, তেমন কিছু হয় নাই, কাল ডিম ভাজতে গিয়ে সামান্য পুরে গেছে। এবার আদিব পুরাপুরি অবাক হয়ে বললো কাল হয়েছে আর তুমি আমাকে এখন বলছো! আদিবকে অনেকটা রাগি দেখাচ্ছে। রিধি আদিবএর হাত ধরে ওর দিকে তাকিয়ে বললো বাবু মাথাটা ঠান্ডা করো, আমি যদি তোমাকে কাল জানতাম তুমি নিজেও সারারাত ঘুমাতে না আর আমাকেও ঘুমাতে দিতেনা।  আদিব কিছুটা রাগ কমিয়ে বললো তাই বলে তুমি আমাকে বলবা না। রিধি মিষ্টি একটা হাসি দিয়ে বললো সরি বাবা, আর হবেনা please রাগ করোনা, দেখছ আমার চুলের কি অবস্থা। আদিব আর রাগ ধরে রাখ তে পারলোনা, রিধি এর দিকে তাকিয়ে বললো, এখন কি অবস্থা হাতের? রিধি বললো তোমার কনো tension করতে হবেনা, ডাক্তার ঔষধ দিয়েছে, রাতে একটু জ্বলতে ছিলো but এখন ভাল আছে কনো সমস্যা নাই। আদিব বললো রিধিকে তোমার চুলগুলা size করা দরকার, চিরুনী আছে তোমার ব্যাগে। রিধি উত্তর দিলো নাই। আদিব বললো তাহলে তুমি এখানে দাড়াও আমি আসছি, বলেই আদিব কোথাই যেনো দৈার দিয়ে চলে গেলো। কিছুক্ষন পর আদিব কে দেখা গেলো ওর হাতে চিরুনী আর রাবার ব্যান্ড। রিধি মনে মনে বলতে থাকে এই ছেলেটা সত্যিই একটা পাগল। আদিব রিধির কাছে আসলো, রিধি আদিবকে বললো, কথাই পেলে এগুলো? আদিব উত্তর দিলো ইলার থেকে এনেছি। বলেই আদিব রিধির চুল বেধে দিলো campus এর সবাই বিষয়টা নিয়ে আলোচনা করতে থাকে। অল্প কিছু দিনের মধ্যেই াদিব আর রিধির প্রেমটা campus এ famous হয়ে যায়।

 

 

আজ ১৪ই ফেব্রুয়ারি, আদিব আর রিধি এর প্রেম শুরু হওয়ার পর এটাই প্রথম valentines day। এই দিনটা নিয়ে ওরা অনেক প্লান করলো, রিধি আদিব কে পাঞ্জাবি পরে আসতে বলেছিলো, আদিব পাঞ্জাবি পরে এসেছে, কিন্তু ওদের প্লানে সামান্য বাধা পড়লো। ওরা ভার্সিটির study room এ বসে আছে আদিবের মনটা ভিসন খারাপ। রিধি আদিবকে বললো কি হয়েছে তোমার? আদিব বললো একেতে আজ valentines day তারপর আবার Friday, ভার্সিটির আজ কেনো makeup class দিতে হবে? কত প্লান করে ছিলাম আমরা সব নষ্ট হয়ে গেলো। রিধি আদিবের মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে বললো আরে বাবা আমরা তো বিকালে বের হচ্ছি, তাছারা এই দুপুর বেলা তুমি কোথায় যাবা? আদিব আর কনো কথা বললো না। কিছুক্ষন পর রিধি আদিবকে বললো আদিব আজ না friday তুমি নামাজে যাবানা? আদিব না বলতে যাবে তার আগে রিধি কিছুটা চোখ গরম করে বললো, না বলা যাবেনা, নামাজে যেতেই হবে, চলো আমি যাচ্ছি। আদিব আর কনো কথা না বলে উঠে দাড়ালো, রিধি আর আদিব এক সাথে বের হয়ে মসজিদ এর কাছে গেলো। আদিব রিধিকে বললো আচ্ছা এবার তুমি যাও আমি নামাজ পরে আসি। রিধি বললো না আমি দাঁড়ায়ে আছি তুমি নামাজ পরে আসো। আদিব রিধিকে বললো মসজিদের আসে পাসে তোমার থাকাটা ঠিক হবে না। রিধি বললো আরে আমি কি এখানে দাড়াবো আমি একটু দূরে দারায়ে থাকবো। আদিব বললো না তুমি চলে যাও রৈাদের মধ্যে তোমার দাঁড়ায় থাকতে হবেনা। রিধি আর কনো কথা না বাড়িয়ে আদিবকে বললো আচ্ছা থাহলে তুমি নামাজ পরে চলে এসো, বলেই রিধি ওখান থেকে চলে আসলো। রিধি ভার্সিটির এমন একটা জাগায় দারায় আছে যেখান থেকে রাস্তা দেখা যায়। রিধিকে একা দাঁড়ায়ে থকাতে দেখে রিধির fiend নুসরাত রিধির পাসে এসে দাড়ালো। নুসরাত রিধিকে বললো, কিরে কি করিস এখানে? চল ভিতরে চল। রিধি নুসরাত কে বললো না আদিব নামাজ পরে আসবে। নুসরাত কিছুটা অবাক হয়ে বললো, so what, আদিব কি বাচ্ছা ছেলে যে তোকে খুজে পাবেনা? রিধি বললো নারে তুই যা, আমার যেতে ইচ্ছা করছেনা। নুসরাত এখন স্বাভাবিক ভাবে বললো, সত্যিই তোদের দুজনার প্রেম দেখে মাঝে মাঝে হিংসা হয়। কথাগুলো বলতে বলতেই আদিবকে রাস্তাই দেখা গেলো। আদিব রাস্তা থেকে রিধি কে দেখে হাত দিয়ে ইসারা করতে লাগলো ঠিক তখনি পিছন থেকে একটা রিক্সা এসে আদিব কে ধাক্কা দিলো, সাথে সাথে রিধির বুকের মধ্যে কেপে উঠলো, রিধি আদিবের দিকে তাকিয়ে আছে, একটু পর আদিব হাত তুলে আবার ইশারা করে বুঝালো ও ঠিক আছে। রিধি তখন বিরবির করে বলতে ছিলো, এই ছেলেটা যা অস্থির। রিধি আদিবের দিকে তাকিয়ে আছে, আদিব রাস্তা পার হচ্ছে আর একটু পর পর রিধি এর দিকে তাকচ্ছে। ঠিক তখনি পাস থেকে একটা গাড়ি এসে আদিব কে ধাক্কা দিলো, আদিব ছিটকে রাস্তার এক পাসে পরে গেল। আদিবের কনো সারা পাওয়া গেলোনা। মিনিট খানেক চুপচাপ থাকার পর আদিব উঠে দাড়ালো, ওর মাথাটা একটু ঝিম ধরে আছে। আদিব জরে মাথাটা ঝাকি দিয়ে ঝিমটা কাটিয়ে রিধির দিকে তাকালো, আদিব দেখলো, রিধি floor এ পরে আছে আর নুসরাত রিধিকে তুলার চেষ্টা করেছে, রিধির কনো sens নেই। আদিব তারাতারি করে উঠে দৈার দিয়ে রিধি এর কাছে গেলো। সাথে সাথে রিধিকে hospital এ নেওয়া হলো।

 

 

দুই দিন পর আদিব doctor এর সাথে কথা বললো। doctor আদিব কে বললো রিধি stork করে রিধির একপাস প্যারালাইস হয়ে গেছে, doctor আরো বললো, সাধারনত প্যারালাইস হওয়ার পর pasent ঠিকমত কথা বলতে পারেনা, but  রিধি এর কথা বলতে কনো সমস্যা হবে না। আদিব অনেক ভেঙ্গে পরলো কি করবে কিছু বুঝতে পারছে না, doctor আরো বলেছে রিধি ঠিক হতে পারে আবার নাও হতে পারে। তবে যদি প্যারালাইস কনো অংশে একবার sens আসে থাহলে খুব তারাতারি ও পুরোপুরি ঠিক হয়ে যাবে। আদিব hospital এর waiting room এ বসে আছে, ওর নিজের অজান্তেই ওর চোখ দিয়ে পানি পরছে। আদিবের friend  সাফায়েত আদিবের কাছে এসে বললো, চল hospital এ আর থাকার কনো মানে হয়না। আদিব অবাক হয়ে সাফায়তের দিকে তাকিয়ে বললো কি বলছিস এসব তোর মাথা ঠিক আছে, একটু পর রিধির জ্ঞান ফিরবে, জ্ঞান ফিরে যদি ও আমাকে না দেখে তাহলে কি হবে তা তুই বুঝতে পারছিস। সাফায়ের আদিবকে বললো আদিব আবেক দিয়ে জীবন চলবে না, এখনি সময় dicision নেওয়ার, কিছু দিন পর তুই পড়াশুনা শেষ করে Job করবি, তখন তোর family  থেকে তোকে বিয়ে দিতে চাইবে, তুই হয়তো একটা প্যারালাইস মেয়েকে নিয়ে সুখি হবি, কিন্তু তোর family কি এটা মেনে নেবে? তাদেরওতো একটা চাহিদা আছে। আদিব কনো কথা বলতে পারলোনা, আদিব কিচ্ছুক্ষন চিন্তা করলো, তারপর বললো তুই যা বলসিস সব ঠিক আছে, but এই অবস্থাই কি রিধি কে এভাবে ফেলে যাওয়া কি ঠিক হবে? সাফায়েত বললো তুই কনো চিন্তা করিস না, আমি নুসরাত কে সব বুঝিয়ে বলে এসেছি, ও সব কিছু দেখবে, তুই চল, বলেই সাফায়েত আদিবের হাত ধরে টানতে টানতে নিয়ে গেলো। আদিব আর কনো কথা না বলে সাফায়েতের সাথে চলে গেলো।

 

দুপুর ২ টার দিকে রিধির জ্ঞান ফিরলো। সবার প্রথম ও যে নামটা নিলো সেটা আদিব রিধি কিছুটা উত্তেজিত হয়ে বলতে থাকলো আদিব কোথায় ওর কি অবস্থা? নুসতার রিধির হাত ধরে বললো, আদিবের কিছু হয় নাই সামান্য ব্যাথা পেয়েছছিলো এখন ভাল আছে। নুসরাতের কথা শুনে রিধি কিছুটা শান্ত হলো, রিধি এবার বুঝতে পারলো ওর বাম হাত পা নরাতে পারছেনা, রিধি নুসরাতের দিকে তাকিয়ে কিছু বলতে যাবে তার আগে নুসরাত রিধি কে বললো তোর বামপাশ প্যারালাইস হয়ে গেছে। রিধি নুসরাত কে বললো আদিবের যে কিছু হয় নাই এটাই আমার জন্য অনেক কিছু, আল্লা আমার ক্ষতি করে ওকে ভালো রেখেছে, আমার কনো দুঃখ নাই, বলেই রিধি নুসরাত কে বললো আমার phone টা একটু দেতো। নুসরাত রিধি কে phone দিলো আর বললো কাকে phone দিচ্ছিস? রিধি phone dial করতে করতে উত্তর দিলো আদিবকে। নুসরাত রিধির হাত চেপে ধরে বললো রিধি তোর কি মনে হয়না, তোর আদিবের জীবন থেকে স্বরে যাওয়া উচিৎ। এই কথাগুলো বলতে বলতে mobile এর loud speaker এ বেজে উঠলো আপনার dial কৃৎ number এ মুহুর্তে সংজোগ দেওয়া সম্বভ হচ্ছেনা, কিছুক্ষণ পর আবার চেষ্টা করুন। রিধি mobile টা পাশে রেখে বললো হ্যাঁ তুই ঠিকি বলেছিস, আমার উচিৎ রিধির জীবন থেকে স্বরে আসা, আমি আর আদিবের উপজুক্ত নেই, ওর ভালোর জন্য আমি সব করেতে পারবো। ওর যেটা ভালোহবে আমি সেটাই করবো, আমি ওর জীবন থেকে স্বরে আসাটাই এখন আদিবের জন্য ভালো। কথাগুলো বলার সময় রিধিকে খুব শক্ত লাগলো। মনে হলো খুব কঠিন একটা decision ও খুব সহজে নিলো।

 

 

৫ বছর পর, ঢাকার একটা বড় প্রাইভেট কোম্পানিতে আদিব job  করে। আদিবকে দেখে বুঝা যায় পৃথিবীর সবচাইতে সুখি মানুষগুলোর মধ্যে ও একজন,  আদিব office এর মধ্যে দিয়ে হেটে যাচ্ছিলো, পেছন থেকে ওর কলিক ওকে ডাকলো, আদিব সাহেব। আদিব দাড়াই পরলো। ওর কলিক ওর কাছে এসে বললো আজ valentines day উপলক্ষে office থেকে একটা party রাখছি আপনি আসছেন তো? আদিব হাসতে হাসতে উত্তর দিলো, নারে ভাই, ঘরে বউ আছেনা, আমি যেতে পারবো না। আদিবের কলিক উত্তর দিলো, সত্যি ভাই আপনেরে দেখে মাঝে মাঝে হিংশা হয়, এতো কিছুর মধ্যেও আপনেকে দেখে মনে হয় আপনি পৃথিবীর সবচাইতে সুখি মানুষ। এই কথাগুলো বলতে বলতে আদিবের phone বেজে উঠলো। আদিব phone বেরকরলো, video call form wife  আদিব call receive করলো, বিছানায় সুয়ে আছে রিধি বিছানার পাশে একটা wheel চেয়ার, আদিব রিধিকে বললো, বলেন মেম। রিধি জিজ্ঞাসা করলো কখন আসবা তুমি? আদিব বললো এইতো কাজ মোটামুটি শেষ, একটু পরই রৈানা দিবো, আদিব খেয়াল করলো রিধির চোখে পানি, আদিব কিছুটা অস্থির আর কিছুটা অবাক হয়ে রিধিকে জিজ্ঞাসা করলো রিধি তুমি কাঁদছো! তুমিতো কখনো কাঁদনা। রিধি উত্তর দিলো আমি যে কখনো কাঁদিনা, এটা আমার কোন গুন না, তুমি কোখনো আমাকে কাঁদতে দাও নাই, একটা মেয়ে যার বামপাশ সম্পূর্ন অচল সেই মেয়ে যে পৃথিবীর সবচাইতে সুখি মানুষ হতে পারে, তা আমি কনো দিনো ভাবতে পারি নাই, তুমি আমাকে সেই সুখ দিয়েছো, তুমি সব সময় আমার  take care করেছো কনো দুঃখ কষ্ট তুমি আমার কাছে আসতে দাও নাই, কিন্তু আজ আমি নিজেকে কনো ভাবে বুঝাতে পারছিনা, আজ valentines day, আজ সবাই তার ভালোবাসার মানুষের জন্য gift কিনে উপহার দিচ্ছে, আমিও হয়তো পারতাম কাওকে দিয়ে gift কিনে এনে তোমাকে দিতে, কিন্তু আমি নিজে গিয়ে তো আর তোমার জন্য কিনতে পারবোনা, আমার তো সেই ক্ষমতা নাই। কথাগুলো বলতে বলতে রিধি আরও ভেঙ্গে পরলো। আদিব বললো রিধি তুমি phone রাখো আমি এখনি আসছি বলেই আদিব phone কেটে চলে গেলো। আদিব প্রতি দিনের মত বাসার দরজাই কলিংবেল টিপলো, দোরজা খুলে গেলো। আজ অন্যদিনের মতো বুয়া দোরজা খুলে নাই, দোরজাই রিধি দাঁড়ায়ে আছে কনো কিছু না ধরে, রিধি black and white শাড়ি পরেছে কপালে একটা black টিপ দিয়েছে, অসাধারন লাগছে ওকে, আদিব নিজের চোখকে বিস্বাস করতে পারছে না, আদিব মাথা ঘুরে পরেজেতে লাগলো, সাথে সাথে সে নিজেকে সামলাই নিলো, তারপর রিধির দিকে তাকিয়ে চীৎকার দিয়ে বললো কবে…? কিভাবে…? কিন্তু ওর মুখ দিয়ে কনো আওয়াজ বের হলোনা শুধু মুখ নরলো। রিধি কনো কথা না বলে আদিবের হাত ধরে বাসার মধ্যে নিয়ে দরজা বন্ধ করে দিলো, দোর দিয়ে পাসের room এ গেলো। আদিব মুগ্ধো চোখে রিধির ছুটাছুটি দেখলো। রিধি পাসের room থেকে বের হলো, ওর হাতে একটা gift box, রিধি আদিবের কাছে এসে বললো happy valentines day, বলেই gift box টা আদিবের হাতে দিলো। আদিবের বিস্ময় এখনো কাটে নাই, আদিবের মনে হচ্ছে ও স্বপ্নের মধ্যে আছে। আদিব রিধির gift টা নিয়ে পাসের table এ রাখলো, তারপর রিধির দিকে তাকিয়ে কিছু বলতে যাবে, তার আগেই রিধি এসে আদিবকে জরিয়ে ধরলো আর একহাত দিয়ে আদিবের মুখ চেপে ধরে বললো, আজ আমি বলবো তুমি শুধু সুনবে (৫বছর আগে hospital এ যা হয়েছিলো সেগুলো ওরা মনে করলো, hospital এ নুসরাত রিধিকে খাওয়ানোর চেষ্টা করছিলো, রিধি বললো আমার খেতে ইচ্ছা করেছে না। নুসরাত বললো এভাবে না খেয়ে থাকলে তো তুই আরো বেসি অসুস্থ হয়ে পরবি। রিধি বললো আমি একবার বলছি না আমি খাবোনা। তখনি আদিব পাসথেকে বলে যদি আমি তোমাকে খাওয়াই দেয় তাও খাবেনা? রিধি দেখলো দরজার কাছে আদিব দাঁড়িয়ে আছে ওর হাতে একটা lunch box। কথাগুলো বলেই আদিব বক্স থেকে খাবার বের করে একটা প্লেটে রাখলো, তারপর রিধির কাছে এসে ওর মুখে খাবার তুলে দিলো। রিধি খাবার মুখে না নিয়ে বললো এই কয়দিন কথাই ছিলে তুমি? আদিব উত্তর দিলো আমি জানি তো তুমি আমার হাতে ছাড়া খাবা না, কিন্তু তোমার এমন অবস্থায় তো আর বাহির থেকে খাবার এনে তোমাকে খাওয়াতে পারবো না, আর আমি তো নিজে রান্না করতেও পারি না, তাই রান্না শিখতে শিখতে কয় দিন দেরি হয়ে গেলো। রিধি কিছুটা অবাক হয়ে বললো এগুলো তুমি রান্না করেছো? আদিব মাথা নারিয়ে উত্তর দিলো হ্যাঁ, বলেই আদিব খাবারটা রিধির মুখে তুলে দিলো। রিধি আর কনো বাধা দিলো না। খাবার পর রিধির মুখে একটু হাসি দেখা দিলো, অনেক দিনপর ওর মুখে হাসি দেখে সবার চোখে জল চলে আসলো কিন্তু কেও প্রকাশ করলো না, সবাই আরাল করলো। রিধি হাসতে হাসতে আদিব কে বললো তুমি তো অনেক……. বাজে রান্না করো। ওর কথা শুনে উপস্থিত সবাই হেসে ফেললো, একমাত্র আদিব নাকমুখ ফুলিয়ে রিধির দিকে তাকিয়ে থাকলো। রিধি ও আদিবের দিকে তাকিয়ে আছে, তারপর রিধি বললো, না বাবু রাগ করতে হবে না, তোমার রান্না অনেক সুন্দর হয়েছে। এবার রিধির মুখে হাসি দেখা গেলো। রিধি এবার হাসি থামিয়ে আদিবকে বললো, আদিব তুমি আমকে ভুলে যাও, আমকে ভুলে যাওয়াটা তোমার জন্য ভালো হবে। আদিব রিধির হাত ধরে বলতে লাগলো, রিধি আমি যদি তোমাকে ভুলে অন্য মেয়ে কে বিয়ে করি তাহলে হয়তো বউ পাবো কিন্তু রিধিকে তো পাব না, আমি বউ চায় না, শুধু রিধিকে চায়, তুমি প্যারালাইস হওয়ার পর অনেকেই অনেক কথা আমাকে বলেছে কিন্তু আমি এক মুহুর্তের জন্যেও ভাবিনি আমি তোমাকে ভুলেযাব, আমি এই কয়দিন দূরে ছিলাম কেন জানো? তুমি প্যারালাইস হওয়ার পর আমি ভাবছিলাম আমি একটা প্যারালাইস মেয়ের সাথেই কেনো থাকতে চাচ্ছি? আমি তোমাকে কনো করুনা করছি না তো? যাকে এতো ভালবাসি তাকে করুনা করবো বিষয়টা মেনে নিতে পারছিলাম না, তাই উত্তর খুজার জন্য কিছুদিন তোমার থেকে দূরে ছিলাম, তারপর আমি বুঝতে পারলাম যে আসলে আমি তোমার উপর করুনা করে তোমার কাছে থাকতে চাচ্ছি না, আমি তোমাকে ছাড়া থাকতে পরবো না, এই জন্যই আমি তোমার কাছে থাকতে চাচ্ছি। এ কথাগুলো শুনে রিধি এক হাত দিয়ে আদিবের কলার চেপে ধরে বললো তুই না বললি তুই রান্না শিখার জন্য দূরে ছিলি? এই কথাশুনে আবার সবাই হেসে ফেললো। আদিব আর কনো কথা না বলে রিধির মাথাই একটা চুমু দিলো) তারপর রিধি আদিবকে জরিয়ে ধরে বলতে থাকলো আর সেইদিন থেকে আজ পর্জন্ত তুমি সবসময় আমার কাছে ছিলা, কখনো দুঃখ কষ্ট আমার কাছে আসতে দাওনি, আমাকে তুমি পৃথিবীর সব চায়তে সুখি মানুষ বানিয়েছো, কথাগুলো বলার সময় রিধির চোখের জলে আদিবের shirt ভিজে যাচ্ছিলো আর আদিবের চোখের জলে রিধির গাল ভিজে জাচ্ছিলো, তারপর রিধি আবার বলতে শুরু করলো, আদিব আমি আজ থেকে ৬ মাস আগে প্রথম আমার বামপাসে sense পাই, আমি যখন প্রথম sense পাই তোখন আমার প্রথম তোমার কথা মনে পরে আমি ভাবছিলাম যে তুমি শুনে কতটা খুশি হবে, আমি তোমাকে phone করতে যাবো তার আগেই doctor আংকেল এর phone এলো, আমি আংকেল কে সবকিছু বললাম, আংকেল সবশুনে বললো আমি যেহেতু sense পেয়েছি আমি ৪ ৫ মাসের মধ্যে পুরোপুরি ঠিক হয়ে যাবো, তখন আমি ভাবলাম না আমি আদিবকে এখন বলবো না, আমি যদি এখন বলি আমি প্রতিদিন একটু একটু করে ভালোহবো আর তুমি একটু একটু সুখ পাবা, তার থেকে আমি পুরোপুরি ঠিক হয়ে তারপর তোমাকে বলবো, তাহলে তুমি সব সুখ একসাথে পাবে, আদিব বিশ্বাস করো আমি একটু একটু করে ভালো হয়েছে আর আমার চীৎকার করে বলতে ইচ্ছা হয়েছে তোমাকে আদিব আমি ভাল হচ্ছি, এই দিনটার কথা মনে করে আমি নিজেকে সামলাইনিছি, বুয়াকে বলতে নিষেধ করে দিয়েছে, doctor আংকেলকেও নিষেধ করে দিয়েছি শুধু এই দিনটার জন্য, আজ আমি সেই সুখ তোমার চোখে দেখতে পাচ্ছি, এতো সুখ যা তুমি ধরে রাখতে পারছোনা, যে সুখ তোমার চোখ থেকে গরিয়ে গরিয়ে আমার মুখে পরছে। আদিব এবার মুখ খুললো সত্যিই রিধি আমি এতো আনন্দ আমার জিবনে কখনো পাই নাই, এটা আমার জিবনের শেষ্ট আনন্দের দিন, এটা সত্যি আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি, কেন বাসবোনা বলো? যে মেয়েটা আমার accident নিজের চোখে দেখে stock করলো, যে মেয়েটা নিজের প্যারালাইসের কথাশুনে বললো আল্লাহ আমার বদলে আদিব কে ভালোরেখেছে এটাই আমার কাছে অনেক বড়, সেই মেয়েকে ভালোবাসবো না তো কাকে ভালবসবো বলো? এই সব কথাগুলো ওরা এক জন আরেক জনকে জরিয়ে ধরে বলতে ছিলো, এবার রিধি আদিবকে ছেড়ে দিয়ে বললো, তুমি আমার জন্য অনেক কিছু করেছো, এখন আমার পালা, এখন থেকে আমি তোমার সব কিছু করে দিবো, তোমার প্রতিটা মুহুর্ত আমি আনন্দে ভরে দিবো। আদিব রিধির মুখ চেপে ধরে বললো জি না মেম, আগে আপনে আপনার graduation complete করবেন তারপর। রিধি কিছুটা অবাক হয়ে বললো কি বলো এগুলো আমি সেই কবে পড়ালেখা বাদ দিছি এখন কি আমি পারবো? আদিব বললো, অব্যশই পারবা আমি কালকেই সব খোজ খবর নিবো, বলেই ওরা একে অন্যকে আবার জরিয়ে ধরলো।

 

কিছুদিন পর রিধি exam হলের সামনে দারিয়ে আদিবকে বললো, আচ্ছা আমি যাই exam শুরু হতে আর ১০ মিনিট বাকি আছে, আদিব সাথে সাথে রিধিকে বললো, রিধি দারাও। রিধি ঘুরে দারিয়ে বললো কি? আদিব বললো মাথাই কাপর দাও, রিধি মাথাই উরনা দিলো। আদিব কিছু দোয়া পরে ফুঁ দিয়ে বললো এবার যাও, রিধি কিছুটা রেগে আদিবকে বললো তোমাকে পায়ে হাত দিয়ে সালাম করতে হবে না? আদিব মাথা নারিয়ে উত্তর দিলো না। রিধি সাথে সাথে ঘুরে দারালো, ওর মুখে হাসি দেখা গেলো আর ও মনে মনে বললো পাগল একটা। যেই হাসি আর কথাটা আদিব পিছন থেকে বুঝতে পারলো না।

 

 

 

******সমাপ্ত*******

 

 

Md. Abu Naser Tusar

studying in EEE at United International University(UIU)

Phone: 01764642232/01717853809

gmail: naser.tusher@gmail.com

facebook id: Abu Naser Tusher.

 

 

2 মন্তব্য

উত্তর দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here