(রিস্ক নেওয়াটা সফলদের তপস্যা) সফল হতে হলে রিস্ক নিতেই হবে..

0
111

#শরিফুল বলল-

ভাইয়া,এই যে নিজের সাবজেক্টের প্রতি ফোকাস কমিয়ে,যেটা ভালো লাগে, সেটাতে ফোকাস দিব। এতে তো রিস্ক বেড়ে যাবে। যদি শেষ পর্যন্ত না পারি? না হয়,তাহলে ত এই কূলও যাবে,ওই কূলও যাবে। এই রিস্ক কীভাবে এভোয়েড করব? রিস্কের কথা শুনলেই তো কলিজা শুকায় যায়।।

তখন রবিউল ভাই বলে উঠলেন–

শুন আমাদের এক স্যার ছিলেন, তিনি একটা মজার কথা বলেছিলেন।

আমরা প্রতিদিন বাসা থেকে বের হওয়ার সময় আমাদের বলে দেয়,সাবধানে থাকিস । কখনোই বলে দেয় না,আজকে দুইটা রিস্ক নিয়ে আছিস । নতুন কিছু ট্রাই করে আসিস ।

তারপর স্যার একটা উদাহরন দিয়েছিলেন । ধর,তুই বাসা থেকে বের হয়ে একটু দূরে গিয়ে দেখস একটা বাঁশের সাঁকো । সেটা খানিকটা নড়বড়ে । সাঁকোর নিচের পানিতে পড়ে নাকানি-চুবানি খাওয়ার ভালো সম্ভাবনা আছে ।এখন তুই কি করবি? এই যে সাঁকোটা একটা একটা রিস্ক । কোনো একটা রিস্ক দেখলে আমাদের মনে দুইটা অপশন আসে । (এক.) সাহস করে, রিস্ক নিয়ে সাঁকোত ওঠা । পড়ে যাওয়ার ভয়কে জয় করে সামনে এগিয়ে যাওয়া।(দুই.) রিস্ক দেখে ভয় পেয়ে বাসাই ফেরত যাওয়া । আর মনে মনে আফসোস করতে থাকা–ইশ, যদি একটা কংক্রিটের ব্রিজ থাকত, তাহলে কনো সমস্যাই হতো না ।

এই দুই টা ছাড়াও যে আরও তিনটা অপশন আছে, সেটা বেশির ভাগ মানুষ চিন্তা করে না । একটু বুদ্ধিমান হলে, তুই হয়তো আশপাশে তাকাবি । যদি একটু দূরে কনো একটা নৌকা দেখস তাহলে সেখানে গিয়ে সেই নৌকা দিয়ে পার  হতে  পারস । অথবা একটু বেশি দূরে অন্য আরেকটা  রাস্তয়, এই খাল বা নদীর ওপর আরেকটা রাস্তাই, এই খাল বা নদীর ওপ র একটা ব্রিজ আছে, সেখানে গিয়ে সেই ব্রিজ দিয়ে পার হতে পারস । এইটা হচ্ছে তুই রিস্ক দেখে সাহসও করলি না, আবার ভয়ও পেলি না; বরং অল্টারনেটীভ একটা রাস্তা বের করলি ।

আরেকটা উপাই হচ্ছে অপেক্ষা করা । কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলেই হয়তো অন্য আরেকজন আসবে । সে হয়ত গতকাল  এই সাঁকো দিয়ে পার হইছে । তাই সে বলতে পারবে কোন জাইগাই একটু ধীরে যেতে হবে । এটা হচ্ছে  অভিজ্ঞ কার কাছ থেকে সাজেশন নেওয়া । তাকে করতে দেখে সাহস পাওয়া । তারপর অন্যকে আগে পার হতে দিয়ে তাকে ফলো করা । অন্যকে ওপর রিস্ক ছেড়ে দিয়ে নিজের রিস্ক একটু হালকা করে নেওয়া।

ধর ওপরের দুইটা ওপশন কাজ করল না । তখন তোর কাজ হবে, একটু একটু করে স্ট্রাটেজি ডেভেলপ করা । রিস্ক কমানো । হয়তো তোর ব্যাগে বই আছে সেগুলা পানিতে ভিজলে কি অবস্থা খারাপ হয়ে যাবে । তাই তুই ব্যাগ খুলে রাখলি । চিন্তা করলি পায়ে স্যান্ডেল আছে । সেটা নিয়ে উঠলে পিছলে পড়ার চান্স আছে । তাই স্যান্ডেল খুলে রাখলি তারপর খালি পায়ে অল্প একটু উঠে হালকা নাড়া দিয়ে দেখলি কেমন নড়তেছে । অর্ধেক পর্যন্ত গিয়ে নিজের কানফিডেন্স বাড়িয়ে নিলি।

তারপর সব যদি ঠিক থাকে তাহলে ফেরত এসে তোর স্যান্ডেল ব্যাগের ভেতরে ঢুকিয়ে একটু একটু করে পার হলি। তুই কি করলি? তুই একেবারে ফুল রিস্ক না নিয়ে । অল্প একটু একটু করে রিস্ক নিয়ে পরিমাপ করে দেখলি । বোঝা গেল রিস্ক যতটুকু আছে, তত টুকু নেওয়া যায় । তখন ব্যাগ নিয়ে একটু একটু করে সামনে এগিয়ে গেলি

তাই আজেকর পর কোথাও রিস্ক দেখলে পালিয়ে যাবি না । বরং বোঝার চেষ্টা করবি রিস্ক কতটুকু । অল্টারনেটিভ, সহজ বা তুলনামূলক সেইফ কনো রাস্তা আছে কিনা । দরকার হলে অল্প অল্প  করে  রিস্ক চেখে দেখবি তাহলে রিস্ক যত বড় মনে হবে তত বড় থাকবে না।

কারণ রিস্ক জিনিসটা আসে যখন তুই কোনো জিনিস প্রথমবারের মতো করতে চাস । সেই কাজটা একবার, দুইবার করে ফেলতে পারলে আর রিস্ক থাকে না । যেমন বাসে ওঠা অনেক রিস্ক । যেকনো সময় চাকা ফুটো হয়ে যেতে পারে । এক্সিডেন্ট হতে পারে এবং প্রতিদিন একটা- দুইটা করে হয়ও । কিন্তু তুই জীবনে কয়েক শতবার বাসে উঠে গেছস বলে এখন আর বাসে ওঠা তোর কাছে রিস্কি মনেই হয় না । একইভাবে এমন অনেক কাজ, যেগুলা তুই জীবনে কখনো করস নাই, সেগুলা তোর কাছে রিস্কি মনে হবে । কিন্তু দুই-তিন বার করে ফেললে সেগুলা তোর কাছে ডাল-ভাত মনে হবে ।

মেইন কথা হচ্ছে রিস্ক মনে করলেই রিস্ক । ভয় পাইলেই ভয় । আর সেটা ম্যানেজ করার জন্য নেমে পড়লে রিস্ক আর রিস্ক থাকে না, ইশক হয়ে যায় । সফল হতে হলে রিস্ক নিতেই হবে ।।

সবাই রবিউল ভাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে ফুরফুরে মেজাজে বিদাই নিল ।।                                                                                      -~~-

 

 

উত্তর দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here