জাতীয় স্মৃতিসৌধে কিছুক্ষ্ণ

0
66

জাতীয় স্মৃতিসৌধর কথা যখন লিখতে বসলাম তখন আর ইংরেজীতে লিখতে ইচ্ছা করলো না। আমাদের প্রিয় বাংলাদেশের জন্য যারা প্রাণ দিয়ে যুদ্ধ করে আমাদেরকে এই দেশ উপহার দিয়েছেন তাদের স্মরণে গড়া এই স্মৃতিসৌধ নিয়ে বাংলা ছাড়া অন্য ভাষাতে লিখতে কেনো যেন নিজের ভিতরে বাধো বাধো ঠেকছে। লিখতে গিয়ে কেনো জানি মনে হচ্ছে এই স্মৃতিসৌধ শুধুতো ১৯৭১ এর শহীদদের সম্মানে বানানো হয়নি। যেখান থেকে এই দেশের একক স্বার্বভৌমত্ব আর স্বাধীনতার বীজ বপন হয়েছিলো সেই ১৯৫২ সালের ভাষা শহীদদের সম্মানতো এই স্মৃতিসৌধের সাথে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে থাকার কথা। তাই আজ না হয় ইংরেজী বাদ দিয়ে বাংলায় লিখি। শুধু মাতৃভাষা দিবসেই খালি বাংলা নয়।সারা বছরেও কিছু না কিছু বাংলা চর্চা হোক না। অন্তত সকল শহীদের সম্মানে হলেও হোক।

যেতে যেতে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছিলো। প্রায় দর্শনার্থীদের বের হওয়ার সময় হয়ে এসেছিলো। খুবই অল্প সময়ের মধ্যে একটু ভিডিও করতে চেয়েছিলাম। সময়ের অভাবে করা হলোনা। অল্প যা একটু ভিডিও করলাম তা মন মতো হয়নি। তাই কয়েকটা ছবি তোলাই সার।

সাভারের স্মৃতিসৌধ কিন্তু কোনও বিদেশী স্থপতি শিল্পীর সৃষ্টি না। আমাদের দেশেরই যোগ্য সন্তান ও অত্যন্ত প্রতিভাবান একজন গুণী স্থপতি মইনুল হোসেন এর শিল্পকর্মই আজকের এই অনিন্দ্য সুন্দর স্মৃতিসৌধ। দূর থেকে দেখে একটি মনে হলেও আসলে মোট সাতটি ত্রিভুজ আকৃতির স্তম্ভ দিয়ে তৈরী এই স্থাপনা। মাঝখানের ত্রিভুজটি সবচেয়ে উচু আর দুই পাশে তিনটি করে ছয়টি স্তম্ভ এমনভাবে করা যাতে দূর থেকে শুধু মাঝখানের স্তম্ভটি দেখে একটিই মনে হয়। প্রধান স্তম্ভের ঠিক সামনেই একটি জলাধার এমনভাবে বানানো হয়েছে যাতে এর সামনে দাড়ালে মনে হবে স্মৃতিসৌধটি একটি আয়নার উপর রাখা। এর ডান পাশে দুটি গণকবর আছে। পুরো এলাকাটাই লাল টালির ইট দিয়ে বাধানো। ঢুকার গেটের ডান পাশে একটই মসজিদ আছে। আর বাম পাশ দিয়ে ভি আই পি, ভি ভি আই পি যাওয়ার পথ।

প্রতিদিন অনেক দর্শনার্থীর ভিড় জমে এই স্মৃতিসৌধ দেখার জন্য। সকাল দশটা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খোলা থাকে দর্শনার্থীদের জন্য। যারা দেখতে যাচ্ছেন বা যাবেন তাদের প্রতি একটাই অনুরোধ দয়া করে যথাযোগ্য সম্মান বজায় রেখে চলবেন। অনেকেই সতর্কতা সাইনবোর্ড থাকা সত্ত্বেও গণকবরের উপর উঠে ছবি তুলে। বাগান মাড়িয়ে দেন। আর সবচেয়ে বড় হচ্ছে যেখানে খালি পায়ে যাওয়ার কথা সেই মুল মঞ্চে কেউ জুতা নিয়ে যাবেন না।

নিজে সতর্ক থাকুন এবং অন্যকেও সতর্ক করুন।

উত্তর দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here